পর পর ২ বার প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, তারপরেও মৃত্যু হল না আমেরিকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির

Photo: BBC

এক বার নয়, পরপর ২ বার প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। তবু মৃত্যু হল না ৫০ বছরের ক্রিস্টা পাইকের। আমেরিকার টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে এমনই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়ল প্রশাসন। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা নাগাদ ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁকে ‘পেন্টোবারবিটাল’ নামে প্রাণঘাতী রাসায়নিকের দু’টি ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও তাঁর হৃদ্‌স্পন্দন বন্ধ হয়নি। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাঝপথেই পাইকের আইনজীবীরা জরুরি আবেদন করে প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য, পাইক জ্ঞান হারালেও তাঁর হৃদ্‌স্পন্দন চলছিল এবং তিনি নাক ডাকছিলেন। সংবাদসংস্থাসূত্রে খবর, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দু’বার সাক্ষীদের ঘরের পর্দা টেনে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।

টেনেসির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফার ওষুধে মৃত্যু না হলে দ্বিতীয় দফায় প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার দেওয়ার পরেও বন্দি বেঁচে থাকলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে নিয়মে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই।


ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে চলতি বছরে রাজ্যে বাকি থাকা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত করেছেন তিনি। পাইকের আইনজীবীদের নিযুক্ত চিকিৎসক জোয়েল জিভটের দাবি, তাঁর রক্তে পেন্টোবারবিটালের মাত্রা সম্ভবত এতটা বাড়েনি, যাতে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ার কারণে পাইকের মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছরের কলিন স্লেমারকে খুন করার অভিযোগ ওঠে পাইকের বিরুদ্ধে। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। পাইকের অভিযোগ ছিল, কলিন তাঁকে অপমান করেছিলেন এবং তাঁর প্রেমিককে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে মারধর ও নির্যাতনের পর কলিনকে খুন করা হয়। পাইকের দাবি ছিল, তিনি কলিনকে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু খুন করার উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ১৮ বছরের কিশোরী ছিলেন এবং নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে এআই-এর নাম বদলে সুপার ইন্টেলিজেন্স, সমর্থন টেক সংস্থার সিইও-দের

কলিনের মা মে মার্টিনেজ অবশ্য পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে ছিলেন। কয়েক দশক ধরে মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আসা মার্টিনেজ বুধবারের ঘটনার পর বলেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিল। টেনেসিতে চলতি বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। মে মাসে টোনি ক্যারুথার্স নামে এক বন্দির ক্ষেত্রেও প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য শিরা খুঁজে না পাওয়ায় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল।