ইরানের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণাত্মক অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যদি মার্কিন সেনাদের উপরে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তার সামরিক জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও পরিস্থিতিতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথও খোলা থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে চিরতরে পরমাণু অস্ত্রের পথ থেকে দূরে রাখাই মূল লক্ষ্য।
মার্কিন সেনাদের উপরে সম্ভাব্য ইরানি হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা মার্কিন সেনাদের হত্যা করে, তাহলে আমি খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সামরিক দিকটা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, ‘ইরানের কার্যত কোনও নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই। আমরা তাদের নেতৃত্বকেও ধ্বংস করেছি।’
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প কূটনীতি ও সামরিক পদক্ষেপ— দুই ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। পরমাণু ইস্যুতে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে যে কোনও চুক্তির মূল শর্ত হবে ইরানকে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্রের পথ থেকে দূরে রাখা। তিনি বলেন, ‘আমরা জিতব। সে কাগজে-কলমে হোক বা সামরিকভাবে।’
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ের পরমাণু চুক্তির সমালোচনা করে ট্রাম্প। তাঁর দাবি, সেই চুক্তি ইরানকে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ করে দিত। তাঁর মতে, ‘নতুন কোনও চুক্তি হলে তা হবে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী এবং ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না।’
তবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাই একটি চুক্তি হোক।’ আর ট্রাম্পের এই কথা শুনে অনেকেই মনে করছে, ওয়াশিংটন এখনও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।