পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার বার্তা ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কিছুটা কমলেও শান্তি কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে এখনই সংশয় দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হল আমরিকার প্রতি সম্মান দেখানো। তাঁর মতে, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখায়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই আবহেই সোমবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘ভয়’ শব্দটি ব্যবহার করতে চান না। তবে ইরান যতদিন আমেরিকাকে সম্মান করবে, ততদিন বড় ধরনের কোনও সমস্যা তৈরি হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইরান হরমুজে নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবহারে বড় প্রভাব পড়ে। বর্তমানে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।


শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সেটি পরিচালনা করা হবে। সুইৎজারল্যান্ডে প্রাথমিক বৈঠকের পর আমেরিকা ইরানের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে তেল রপ্তানিতে সাময়িক ছাড়ও রয়েছে।

এছাড়া ইরানে আটকে থাকা তহবিল ও সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে আমেরিকার শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত হওয়া অর্থ ইরানকে মূলত খাদ্যশস্য কেনার জন্য ব্যবহার করতে হবে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব। এই শর্তে তেহরান এখনও পুরোপুরি সম্মত হয়নি।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর আব্দুলনাসেরর হেম্মাতি দাবি করেছেন, বর্তমানে চুক্তিতে আমেরিকার কাছ থেকে কৃষিপণ্য কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর মতে, তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে অতিরিক্ত শর্ত চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।

এই পরিস্থিতি ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে যখন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও স্পিকার গালিবাফ ওমানে নতুন দফার আলোচনায় যোগ দিতে গিয়েছেন, তখনই এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।