ভারতকে সোজা নরকের সঙ্গে তুলনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আমেরিকায় থাকা কর্মরত ভারতীয়দের নাম না করে ‘ল্যাপটপ থাকা গ্যাংস্টার’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ওই ভিডিওতে ভারত ও চীনকে ‘নরক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
একটি পডকাস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত এবং চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘হেলহোল’ বলে অভিহিত করেছেন। এই ‘হেলহোল’ শব্দটি মূলত ব্যবহার হয় চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং অরাজকতা চলছে এমন জায়গা বোঝাতে। এককথায়, হেলহোল শব্দটির অর্থ নারকীয়।
একটি রেডিও পডকাস্টে ট্রাম্পকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। সেখানেই বিতর্কিত মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ভারত আর চিনের মহিলারা গর্ভাবস্থার নবম মাসে আমেরিকায় আসে। তার পরে এখানে সন্তানের জন্ম দেন। আর সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তান এখানকার নাগরিক হয়ে যায়। তারপর ভারত, চিন বা অন্য কোনও নরক থেকে সেই সন্তানের গোটা পরিবার আমেরিকায় এসে নাগরিক হয়ে যায়।
তাই গণভোটের মাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত।’ এখানেই শেষ নয়, সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য লিখিত আকারে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। সেখানেই তিনি ভারত ও চিনের অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপ হাতে গ্যাংস্টার’ বলেও কটাক্ষ করেন। ট্রাম্পের মতে, ‘এরা আমেরিকাকে সম্মান করে না। পুরো দেশটাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। আমেরিকার সমস্ত মাফিয়াদের থেকেও এই অভিবাসীরা বেশি ক্ষতিকর।’
এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের আর কোনও দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।’ তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ট্রাম্পের এই কথা ঠিক নয়। মেক্সিকো, কানাডা-সহ দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। ভারত ও চিন সম্পর্কে ট্রাম্পের ওই মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।