তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আমেরিকায় পৌঁছেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে চিনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে প্রথা ভেঙে সেখানে হাজির হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। চলতি বছরে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতাদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৈঠক। সেই সঙ্গে, এক দশকেরও বেশি সময় পর শি জিনপিংয়ের এটি প্রথম ওয়াশিংটন সফর।
শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছলে ট্রাম্প তাঁকে স্বাগত জানান। গত ১১ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানালেন। প্রেসিডেন্টদের বিভিন্ন কর্মসূচি নথিভুক্তকারী সি-স্প্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে ফ্রান্সিসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শি জিনপিংয়ের দেওয়া একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-চিন সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করার আশা প্রকাশ করেন। শি জিনপিং বলেন, দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি এখনও পরিবর্তিত হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে চিনে ট্রাম্পকে যে ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়েছিল, এবার তারই অনুরূপভাবে শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের সাউথ লন, স্টেট ফ্লোর ও রোজ গার্ডেনজুড়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে শি জিনপিংয়ের এই সফর থেকে বড় ধরনের কোনও চুক্তি বা কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে কি না, তা নিয়ে তেমন প্রত্যাশা নেই। বুধবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স নিউজকে জানান, চিনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে আলোচনায় দুই পক্ষ এমন একটি চুক্তির মেয়াদ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-চিনের বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা কমিয়েছে।
আলোচনায় শুল্ক কমানো এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়ও উঠে আসতে পারে। এর পাশাপাশি, চিনে আটক মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিও ট্রাম্প আলোচনায় চুলতে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।