ফের ইরানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ইরানে কোনও বিক্ষোভকারীকে ফাঁসি দেওয়া হলে কড়া পদক্ষেপ করবে আমেরিকা, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার থেকে ইরানে ফাঁসি কার্যকর করার সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাইলে, ট্রাম্প এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তারা যদি এমন কাজ করে তবে আমরা খুব কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ ট্রাম্প তাঁর কথায় বুঝিয়ে দেন, প্রতিটি বিষয়েরই একটি সীমা থাকে।
দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতোল্লা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ চলছে ইরানে। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অপরাধে গত ৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় ইরফান সোলতানি নামে ২৬ বছর বয়সের এক যুবককে। তেহরানের বাসিন্দা ওই যুবককে তারপর থেকেই বন্দি করে রেখেছে ইরান প্রশাসন। গত ১১ জানুয়ারি ওই যুবকের পরিবারকে জানানো হয়, তাঁকে ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ইরানের এক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, বুধবারই তাঁকে ফাঁসি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির আরও দাবি, বিনা বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ইরফানকে কোনো আইনজীবীও দেওয়া হয়নি। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও তিনি মাত্র একবারই ১০ মিনিটের জন্য দেখা করার সুযোগ পান।
এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি তাঁর সমাজমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন ইরানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার। তাঁদের সাহায্য করারও আশ্বাস দিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এও জানিয়ে দেন, কোনও বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের মতো পদক্ষেপ করা হলে তিনিও কড়া ব্যবস্থা নেবেন। তবে তিনি পাশাপাশি এও জানান যে, কোনও বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যদণ্ড দিতে চলেছে, এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা তিনি শোনেননি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সরকারের সঙ্গে সব রকমের আলোচনা বাতিল করা হয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্ত, যতদিন না বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হচ্ছে, ততদিনে পর্যন্ত কোনও আলোচনা হবে না।
ইরানে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে শাসকবিরোধী গণবিক্ষোভ। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ক্রমে দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। ইরানের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই গণবিক্ষোভ দমন করা।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে তাদের উপর যথেচ্ছভাবে গুলি চালানো হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ২ হাজার ৫৭১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছে ১২ জন শিশুও। ১৮ হাজারের বেশ মানুষকে আটক করা হয়েছে।