চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালী ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি না হলে এবং হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু না করা হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা।

ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সিরিয়াস আলোচনা’ চলছে। পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই ইতিবাচক। তাঁর কথায়, ‘বড় অগ্রগতি হয়েছে’ এবং খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে কড়া বার্তাও দেন— আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি দ্রুত চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে বাণিজ্যের জন্য খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে পারি।’ তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনে নোনাজল মিষ্টি করার কারখানাগুলিকেও নিশানা করা হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, এতদিন এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণের বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে মার্কিন সেনা ও অন্যান্য নিহতদের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবেই এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।


এদিকে, আলাদা করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা করে বা জাহাজ চলাচলের উপর কোনও ধরনের শুল্ক চাপাতে চায়, তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রুবিও আরও জানান, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব। তবে তার জন্য উভয় পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। ফলে এই প্রণালী বন্ধ বা অচল হয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।