ইরানের সঙ্গে শুক্রবার শান্তিচুক্তি সইসাবুদ হওয়ার কথা ট্রাম্পের। এখনো পর্যন্ত এই সমঝোতা চূড়ান্ত নয়। এটি যদি যদি তাঁর পছন্দ না হয় তবে ইরানে আবার বোমা ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর থেকে লেবাননে ৮৪ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরান ইজরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে । শুধু তাই নয়, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতিতে সাজো সাজো রব। পাকিস্তানও বিশ্বজুড়েে প্রচার চালাচ্ছে ঐতিহাসিক এই চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার পথে প্রধান উদ্যোক্তা তারাই। কিন্তু বুধবার সংশ্লিষ্ট সব মহলকে অবাক করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চুক্তির কোনও ধারা তাঁর যদি অপছন্দ হয়, তবে তিনি ইরানের উপর বোমা ফেলতে কোনও কুণ্ঠাবোধ করবেন না। তাঁর কথায়, ‘যদি আমার পছন্দ না হয় কিংবা তারা ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সোজা তাদের মাথার ওপরই বোমা ফেলতে শুরু করব।’ জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প আরও জানান, এই সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং চূড়ান্ত রূপ কী হবে তা কেউই নিশ্চিত নয়। তাঁর দাবি, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে ইরান এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, বেসরকারিভাবে ইরানের সংবাদমাধ্যম তেহরান কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে বলেছে, তারা ট্রাম্পের বক্তব্যে মোটেই বিচলিত বা অবাক হয়নি। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে কোন মুহূর্তে নিজের অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন সে ব্যাপারে ইরান একশো শতাংশ অবগত। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্ভবত ট্রাম্প চুক্তির বিভিন্ন ধারা ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে নানা সমালোচনার কারণে এখন পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিতে লেবাননে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইজরায়েলের সব ধরনের লড়াই অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।খবরে জানা গিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং তেল রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর মতো বিষয় রয়েছে। তবে পুরো চুক্তির বিস্তারিত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তির মধ্যে স্পর্শকাতর একটি বিষয় ইজরায়েল। কারণ ইজরায়েল বরাবরই বলে আসছে যে তারা নিজেদের রক্ষা করা এবং লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের দখলে রাখবে। ইরান বলেছে যে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইজরায়েলের বাহিনীকে সরে যেতে হবে। যদিও চুক্তির যেসব খসড়া বা তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাতে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই।শান্তির আশা আর যুদ্ধের হুঁশিয়ারি—দুটোই এই মুহূর্তে একসঙ্গে চলছে। আগামী শুক্রবারের বৈঠকই ঠিক করবে, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।