ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধচক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’-র নেতা নিনো গুয়েরেরো নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালিয়ে গুয়েরেরোকে হত্যা
তিনি সমাজমাধ্যমে সামরিক অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেন এবং একে ‘দ্রুত ও সফল সামরিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গুয়েরেরোর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ৪৭ কোটি টাকা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গুয়েরেরো এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে হত্যা, অপহরণ, মাদক পাচার, চাঁদার জুলুম ও মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত। ট্রাম্প জানান, গুয়েরেরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল। ট্রাম্প গুয়েরেরোকে ‘রক্তপিপাসু অপরাধী’ বলেও সমাজমাধ্যমে অভিহিত করেন।
গুয়েরেরো, যাঁর আসল নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গুয়েরেরো ফ্লোরেস, ভেনেজুয়েলার একটি কারাগার থেকে উঠে আসা অপরাধজগতের নেতা। তিনি একসময় কারাগারের ভেতরেই নিজের গ্যাং তৈরি করেন এবং পরে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রে পরিণত হয়। তাঁর সংগঠন ভেনেজুয়েলা ছাড়াও কলম্বিয়া, পেরু, ইকুয়েডর ও চিলিতে ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন সূত্রে দাবি, এই গ্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অসম যুদ্ধ’ চালাচ্ছিল। তাই তাদের বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযানের আগে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে সংগঠনটির একাধিক ঘাঁটিও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে এই অভিযান ঘিরে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ আইনসম্মত এবং মাদকবিরোধী যুদ্ধের অংশ। গুয়েরেরোর মৃত্যু আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র ও মাদক ব্যবসা চালানো অপরাধচক্রগুলোকে দমন করতে যুক্তরাষ্ট্রের এক কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।