এই বিতর্কের সূত্রপাত ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে। সেখানে দাবি করা হয়, ইরান এবং ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এমনকি একটি চুক্তির খসড়াও তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই খবর পাওয়ার পরই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প।
সেরকম কিছু ঘটলে ওমানকে বোমা মেরে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যদিও পরে আবার তিনি মার্কিন ক্যাবিনেটের বৈঠকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের ওই খবর খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে তাঁর মনে হয় না।ট্রাম্পের কথায়, ‘ওদের নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।’
ওমান বরাবরই আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্ব যথেষ্ট। ওমানে মার্কিন দেশের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অতীতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও নিয়েছে ওমান। সেই কারণেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক মহলে ধন্দ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন, ট্রাম্প আদৌ ওমানকেই নিশানা করেছিলেন, নাকি ভুল করে ইরানের বদলে ওমানের নাম বলে ফেলেছেন।
বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে থাকা এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই পথের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে কোনও চেষ্টা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।