লাহোর ও করাচির মার্কিন উপদূতাবাস ছাড়ার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে পাকিস্তানে থাকা নিজেদের দু’টি উপদূতাবাসের অ-জরুরি কর্মীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল আমেরিকা। বুধবার মার্কিন বিদেশ দপ্তর জানিয়েছে, করাচি ও লাহোরে অবস্থিত কনসুলেটে কর্মরত যাঁরা জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরা যেন দ্রুত পাকিস্তান ত্যাগ করেন। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর করাচিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু বিক্ষোভকারী মার্কিন উপদূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে আমেরিকা বিরোধী স্লোগান দেন। অভিযোগ, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টাও করা হয় এবং অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। গুলিচালনার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই সংঘর্ষে একাধিক প্রাণহানির খবর সামনে আসে।

এর আগেই ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত রাখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা হামলার ঝুঁকি এড়াতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, জরুরি কনস্যুলার পরিষেবা সীমিত আকারে চালু থাকবে। তবে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।