এপস্টিন-কাণ্ডের জেরে শীর্ষ সহকারীদের পদত্যাগ, গদি বাঁচাতে লড়াই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

নিজের পদ রক্ষা করতে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে এক বিতর্কিত রাজনীতিবিদকে নিয়োগের বিষয়কে কেন্দ্র করে এই সংকটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়।এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর স্টারমারের দুই শীর্ষ সহযোগী পদত্যাগ করেছেন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনে। এর পরেই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। 

১০ ডাউনিং স্ট্রিটের চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনি গত সপ্তাহের শেষে পদত্যাগ করেন। এপস্টিনের নথি প্রকাশ্যে আসার পর পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে। ম্যাকসুইনির পদত্যাগের পর সোমবার প্রধান যোগাযোগ আধিকারিক টিম অ্যালানও ইস্তফা দেন। তিনি জানান, নতুন করে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দল গঠনের সুযোগ দিতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।  

পদত্যাগপত্রে ম্যাকসুইনি ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন। ইস্তফাপত্রে তিনি লেখেন, ‘পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এতে আমাদের দলের (লেবার পার্টি), দেশের ক্ষতি হয়েছে।’ ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করার পরামর্শ স্টারমারকে তিনিই দিয়েছিলেন বলে জানান ম্যাকসুইনে। কিন্তু দায় নিলেও স্টারমারের বিচারবুদ্ধি ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন লেবার পার্টির একাংশও। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি স্টারমারের পদত্যাগের দাবি উঠছে শাসকদল লেবার পার্টির অন্দর থেকেও। সোমবার সন্ধ্যায় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। এই বৈঠককে ‘মেক-অর-ব্রেক’ বলে মনে করা হচ্ছে।


মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, স্টারমার পদত্যাগ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন লেবার পার্টির সাংসদরা। তিনি পদত্যাগ না করলে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের আরও কয়েকজন।  এপস্টিন-সংক্রান্ত মার্কিন নথি অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের সরকারের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ম্যান্ডেলসন এপস্টিনের সঙ্গে স্পর্শকাতর গোপন তথ্য ভাগ করে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক আরও জোরদার হয় এবং বিরোধী দলগুলি প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে সরাসরি আক্রমণ করে।

 বিরোধীদের প্রশ্ন, এমন একজনকে রাষ্ট্রদূত করার আগে কেন যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি ?  কেন তার দায় নেবেন না প্রধানমন্ত্রী ? ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় রাষ্ট্রদূত করা হয়। এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে তাঁর নাম উঠে আসার পর ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিতর্ক তাতে থামেনি।চাপের মুখে গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান স্টারমার। এই পরিস্থিতিতে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।