পানীয় জল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কটে কার্যত বিপর্যস্ত পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচি। একের পর এক পরিষেবা ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জলের সমস্যা ছিল। এবার সেই সঙ্কটের সঙ্গে জুড়েছে গ্যাসের ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ফলে দৈনন্দিন জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন শহরের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে অনেক বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু খাবার কিনতেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। একই সঙ্গে জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শহরের অধিকাংশ মানুষকেই চড়া দামে জল কিনতে হচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড গরম। সব মিলিয়ে জনজীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন তৎপর হলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। মহম্মদ হানিফ নামে করাচির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাড়িতে ঠিকমতো রান্না হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত খরচ করে সিলিন্ডার কিনছেন। কিন্তু সেটা তো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু পরিবার রান্না বন্ধ করে দিয়েছে।
যদিও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা সুই সার্দানের তরফে জানানো হয়েছে, সামগ্রিকভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কিছু এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি দ্রুত মেটানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সাদিয়া বিবি নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, টানা তিন দিন তাঁদের এলাকায় এক ফোঁটা জলও আসেনি। বাধ্য হয়ে তাঁরা চাঁদা তুলে জলের ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। শহরের অধিকাংশ এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ। তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ক্ষোভের পারদ ক্রমশই চড়ছে। ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ জানাতে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলছেন করাচিবাসী।