ভারতীয় উপমহাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের পাশাপাশি পাকিস্তানেও হয়ে চলেছে হিন্দু নিধন। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয়েছে এক হিন্দু যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে সিন্ধু প্রদেশের তলহারের কাছে। এ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিন্ধু প্রদেশ। নিহত যুবকের নাম কৈলাস কোলহি। প্রকাশ্যে তাঁর বুকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক বাহুবলী জমিদার শরফরাজ নিজামানি কৈলাসকে খুন করেছে বলে জানা গিয়েছে।
কৈলাসের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই সিন্ধু জুড়ে বিক্ষোভ দেখায় সেখানকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের। পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, কৈলাস ছিলেন ভাগচাষি। সরফরাজের জমিতে চাষ করতেন। সপরিবারে থাকার জন্য ওই জমির পাশেই একটি ছোট কুঁড়ে ঘর তৈরি করেছিলেন কৈলাস। এই নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত।
ঘটনার পরেই সিন্ধু প্রদেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন হিন্দু সংখ্যালঘু সংগঠন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি। অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন ও সন্ত্রাসের ধারা যোগ করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মাইনরিটি রাইটস অর্গানাইজেশন পাকিস্তান দারাওয়ার ইত্তেহাদের চেয়ারম্যান শিবা কচ্ছি। সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘নৃশংস ও ঠান্ডা মাথার খুন। কৈলাস কোলহির ন্যায়বিচার চাই।’ অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করলে ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরের সামনে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শহিদ কৈলাস কোহলির খুনির গ্রেপ্তারির দাবিতে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে তা ইতিহাস গড়েছে। এটা স্রেফ প্রতিবাদ নয়, আহত বিবেকের আর্তনাদ।‘ শিবার আরও বক্তব্য, ‘কৈলাস কোহলির একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল যে তিনি দরিদ্র ও প্রান্তিক…’
গোটা উপমহাদেশ জুড়েই চলছে এই নিধন যজ্ঞ। ভারতে জুয়েল রানা, অ্যাঞ্জেল চাকমা যেমন হিংসার শিকার হচ্ছেন অপরদিকে বাংলাদেশে দীপুচন্দ্র দাস, অমৃত মণ্ডল এবং খোকনচন্দ্র দাসকে খুন হতে হচ্ছে। ৭ জানুয়ারি পাকিস্তানে খুন হলেন কৈলাস কোলহি। প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রে সংখ্যালঘু নির্যাতনের জেরে হিন্দুদের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে বলে অভিযোগ। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনও সুরাহা হয় না। সব মিলিয়ে অসহায়তার মধ্যে থাকা মানুষেরা এবার পথে নেমেছেন ভয় ভুলেই। যা ইতিহাস তৈরি করছে বলেই দাবি।