ইরানের উপর তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার ছাড় বাতিল আমেরিকার, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

Photo: File photo

হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল আমেরিকা। সেই হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরেই বুধবার ভোর থেকে ইরানের একাধিক জায়গায় হামলা শুরু করেছে আমেরিকা। ইরানে ধারাবাহিক আক্রমণের পাশাপাশি আমেরিকান ট্রেজারি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির জন্য ইরানকে দেওয়া লাইসেন্স বাতিল করল। তবে আমেরিকার এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের এবার তীব্র নিন্দা জানাল ইরান।

হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলার ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর ইরানের উপর আরোপিত তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা হয়েছিল। তবে ফের আমেরিকার এই নির্দেশের পরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে পাল্টা কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এই বিষয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন ইরানের ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। তিনি আমেরিকার এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, আমেরিকার এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ইরান চরম সতর্কবার্তা দিচ্ছে। নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইরান গুরুতর পদক্ষেপ নেবে।


এর পাশাপাশি ইরানের বিদেশমন্ত্রকও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আমেরিকার নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। সেই সঙ্গে এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য আমেরিকার সরকারই দায়ী থাকবে বলে একথাও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরে পদক্ষেপ নেয় আমেরিকা। বুধবার ভোর রাত থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সামরিক হামলা শুরু করে আমেরিকা।

আমেরিকা ইরানের বন্দর আব্বাসের হাগানি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, সিরিক এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপেও পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আর এই হামলার পরেই আমেরিকার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ইরান।

গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা হওয়ার পর কয়েক দিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল চলছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। প্রথমে ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার অভিযোগ তোলে আমেরিকা। এরপর মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। জবাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে ইরান। কয়েক দিনের সংঘাতের পর উভয় দেশ হামলা বন্ধের কথা জানালেও পরে ইরান ঘোষণা করে, হরমুজ় প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। এই উত্তেজনার মধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে ফের অশান্ত করে তুলেছে।