আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের কোনো পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু তত্ত্বাবধায়ক আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা আইএইএ

 ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফির দাবি, রবিবার ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষতি হয়েছে তাঁদের এক পরমাণুকেন্দ্রের। নাজাফি জানান, ‘ইরানের পরমাণু সংস্থার প্রধান গতকাল পরিচালককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে জানানো হয়েছে, নাতান্জ কেন্দ্র এই আক্রমণের সময় আঘাতের শিকার হয়েছে।’

যদিও আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের কোনো পরমাণুকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের পরমাণু তত্ত্বাবধায়ক আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা আইএইএ। তবে তেহরান দাবি করেছে, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত লেগেছে।

আইএইএ-র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই যে ইরানের কোনো পরমাণুকেন্দ্র, যেমন বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র, তেহরান রিসার্চ রিয়্যাক্টর বা অন্যান্য নিউক্লিয়ার ফুয়েল সাইকেল  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।‘  তিনি সকল পক্ষকে “সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে উত্তেজনা বাড়তে দেবেন না” বলে আহ্বান জানান।


গ্রোসি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়ংকর এবং এতে পরমাণু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইরান-সহ অনেক দেশেই কার্যকরী পারমাণবিক কেন্দ্র এবং গবেষণার জন্য রিয়্যাক্টর আছে, যা তেলের মতো জ্বালানি সংরক্ষণ স্থানের সঙ্গে যুক্ত। তাই কূটনৈতিক আলোচনাগুলো যত দ্রুত সম্ভব পুনরায় শুরু করা আবশ্যক।’ 

গত বছর জুনে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইরানের নাতান্জ পরমাণুকেন্দ্র। সেই সময় একই সঙ্গে ফোরডো ও ইশফাহান পরমাণুকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছিল। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা, যদিও ইরান প্রথমে এটি অস্বীকার করেছিল। বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র থেকে পরে স্পষ্ট হয়ে যায়, যে হামলা সত্যিই সংঘটিত হয়েছিল।

সেই হামলায় পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে আঘাত লেগেও তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। এবারও প্রশ্ন উঠছে, ইজরায়েল এবং আমেরিকা কি নাতান্জকেই নিশানা করেছে ? মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই কেন্দ্রটি নিরাপদ কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তা গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।