আমেরিকার এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত নতুন নীতিকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েন আরও জোরালো হল। ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা কড়া নিয়মের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবার আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হল মার্কিন বণিকসভা। গত সোমবার ওয়াশিংটনের ফেডারেল কোর্টে তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে আপিল নোটিস জমা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর আমেরিকার একটি আদালত এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়মকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে আপিলের পথে হাঁটল বণিকসভা। আদালতের ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার-নির্ধারিত নতুন আর্থিক শর্ত আইনসঙ্গত।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে মার্কিন সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার জন্য এখন সংস্থাগুলিকে সরকারকে দিতে হচ্ছে এক লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। আগে এই খরচ ছিল অনেকটাই কম। আগে এই ভিসার জন্য মার্কিন সংস্থাগুলি সরকারকে দিত সর্বনিম্ন ৯৬০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৭৫৯৫ ডলার। ফলে নতুন নিয়মে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকার কর্পোরেট মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শুধু অর্থনৈতিক শর্তই নয়, এইচ-১বি ভিসার যাচাই প্রক্রিয়াতেও কড়াকড়ি আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভিসা মঞ্জুর করার আগে আবেদনকারীর বায়োডেটার পাশাপাশি তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলও খতিয়ে দেখা হবে। এমনকী, আবেদনকারীর পরিবারের কেউ ভুয়ো তথ্য ছড়ানো বা তথ্য বিকৃতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও যাচাই করা হবে। কারও বাক্স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও ভিসা বাতিল হতে পারে।
উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসার নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দেন বিচারপতি বেরিল হোয়েল, যিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে সেই রায়েও বিতর্ক থামেনি। ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যগুলি ও শিল্পমহলের একাংশ ক্রমশ এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে। আপিল আদালতে নতুন এই আইনি লড়াইয়ের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে আমেরিকার কর্পোরেট দুনিয়া ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।