থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককের কাছেই অবস্থিত ননথাবুরি প্রদেশের একটি স্কুলে চলল একের পর এক গুলি। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, শিশু পড়ুয়াদের ওই স্কুলে শুক্রবার সকালে এলোপাথাড়ি গুলি চলার খবর সামনে আসতেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক সূত্রে খবর, বন্দুকবাজের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক শিক্ষক-সহ সাতজনের। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন পড়ুয়া। পরে সন্দেহভাজন বন্দুকবাজেরও মৃত্যু হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মৃতদের মধ্যে একজন শিক্ষকও ছিলেন। স্কুলে গুলি চালানোর পর হামলাকারী নিজেকেও হত্যা করেছে।
ননথাবুরি প্রদেশের দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এই বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশটি রাজধানী ব্যাঙ্কক থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সকালে পঠনপাঠন শুরু হওয়ার পরেই হঠাৎ শোনা যায় একের পর এক গুলির শব্দ। আর তার জেরে কেঁপে ওঠে গোটা স্কুল। পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির এক পড়ুয়া আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আর তার জেরে স্কুল চত্বরে পরপর গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকলে অনেকের গায়ে গুলি লেগে যায়। ওই পড়ুয়াদের বাঁচাতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁর গায়েও গুলি লাগে। আর তিনি মারা যান।
হামলাকারী ওই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র স্কুল ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেকে আটকে রেখেছিল বলে জানা গিয়েছে। যে স্কুলে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত পরিচিত। সংবাদসংস্থাকে ১৮ বছরের এক ছাত্র জানান, গুলির শব্দ শুরু হওয়ার সময় সে ভেবেছিল কোথাও বাজি ফাটছে। কিন্তু পরে সামনে আসে ভয়ঙ্কর ঘটনা। ওই ছাত্রের বক্তব্য, ‘প্রথমে আমি ভাবিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। অনেকগুলি গুলির শব্দ হয়েছিল ঠাঁই, ঠাঁই, ঠাঁই। তারপর সবকিছু শান্ত হয়ে যায়। তারপর আবার শুরু হয়।’ ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেচরাপি কংডি সংবাদসংস্থাকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হামলার পরে সন্দেহভাজন পড়ুয়াও আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন ওই পড়ুয়া গুলি চালিয়েছে, আগে থেকে হামলার কোনও পরিকল্পনা ছিল কিনা এবং তার হাতে কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তাছাড়া ব্যাঙ্ককের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্সও রাখা হয়েছে। স্কুল সূত্রে খবর, ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৩,১০০। শিক্ষক আছেন ১৪৭ জন। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হিংসার ঘটনা একেবারে প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও দক্ষিণ থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই এলাকায় একটি স্কুলে বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় এক শিক্ষক নিহত এবং দুই পড়ুয়া আহত হয়েছিলেন।