সরকারি অফিসে সারপ্রাইজ ভিজিট তারেকের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে জোর তারেক রহমান। সরকারি দপ্তরগুলিতে কর্মসংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা ফেরানো তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই কাজে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ধারা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। সময়ানুবর্তিতা ও নিয়ম মেনে কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

এই প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে আচমকাই সচিবালয়ে সারপ্রাইজ ভিজিট করেছেন তারেক। সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর সচিবালয়ে পৌঁছে নিজের দপ্তরে না গিয়ে সরাসরি বিভিন্ন মন্ত্রক পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে ৬ নম্বর ভবনে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রকের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন এবং উপস্থিত আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এরপর একই ভবনের অন্যান্য তলায় ঘুরে দেখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, জলসম্পদ, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রক। সেখানকার কর্মীদের উপস্থিতি, কাজের গতি এবং অফিসের পরিবেশ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রক এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকও পরিদর্শন করেন। সব মিলিয়ে অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে হঠাৎ করে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন তিনি।


এই আকস্মিক পরিদর্শনে কিছু কর্মীর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হলেও, অধিকাংশই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এই ধরনের নজরদারি সরকারি অফিসগুলিতে শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে, দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে কৃষক কার্ড সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন, অর্থ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকের মন্ত্রী ও আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। প্রশাসনিক সংস্কারে এই ধরনের সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গতি আনবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।