তাইওয়ানে ভারতীয় শ্রমিকদের নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি ঘিরে বিতর্ক

তাইওয়ানের কাওশিউংয়ে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে, ভারতীয় চিত্রাবলির ওপর নিষেধাজ্ঞাসূচক চিহ্ন সম্বলিত একটি নির্বাচনী বিলবোর্ড সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাইওয়ানে ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক প্রার্থীর ‘ভারতীয়দের নিষিদ্ধ’ করার প্রতিশ্রুতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বর্ণবিদ্বেষ, ভোটের রাজনীতি এবং ভারতের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক— সব কিছু নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে।

সম্প্রতি কাওশিয়ুং শহরের একটি ওয়ার্ডের প্রধান লি হুং-ইয়ের প্রচারপত্র সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভারতীয় পতাকা এবং পাগড়ি পরা এক ব্যক্তির ছবির উপর নিষেধাজ্ঞার চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ছবি সামনে আসতেই তাইওয়ানে বসবাসকারী ভারতীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাওশিয়ুংয়ের সিয়াওগাং জেলার ওয়ার্ড প্রধান লি হুং-ই চলতি বছরের নভেম্বর মাসে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাইওয়ানে ভারতীয় শ্রমিকদের প্রবেশের বিরোধিতা করতেই ওই প্রচার চালানো হয়েছে। লি দাবি করেছেন, তিনি সাধারণভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নন। তবে বিশেষভাবে ভারত থেকে শ্রমিক আনার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন।


এই প্রচার ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে যখন তাইওয়ানে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি সমাজমাধ্যমে লেখেন, এটি ‘স্পষ্ট এবং সরাসরি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ’। তাঁর বক্তব্য, ‘পরিযায়ী শ্রমিক নীতি নিয়ে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মত প্রকাশের এই পদ্ধতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিশেষ করে পাগড়ির মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহারের ঘটনায় শিখ এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাইওয়ানের নিউ পাওয়ার পার্টির কাওশিয়ুং শাখার প্রধান ওয়াং ই-হেং এই প্রচারকে ‘চরম অজ্ঞতাপূর্ণ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক স্তরেও ছড়িয়ে পড়ে যখন সমাজমাধ্যম বিশ্লেষক ইয়ান মাইলস চিয়ং মন্তব্য করেন, ‘তাইওয়ানের মানুষ ভারতীয়দের খুব একটা পছন্দ করে না।’ তাঁর এই মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করে।

তবে তাইওয়ান বিশেষজ্ঞ সানা হাশমি জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত স্থানীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রচার চালানো ব্যক্তি নির্দল প্রার্থী, শাসক দলের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। সানা হাশমি আরও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের বহু রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষ এই প্রচারের বিরোধিতা করেছেন এবং ভারতীয়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতের সম্পর্কে পুরনো ধারণা ভেঙে নতুন করে মানুষকে সচেতন করা প্রয়োজন।