আচমকা স্ট্রোক জিনপিং-এর! শুরু জল্পনা, বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

File Photo

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। চিনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সন্মেলনের সময়ে শি জিনপিং অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পরে গুরুতর ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তবে বেজিং সরকারিভাবে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।

একাধিক পোস্টে শিয়ে দাবি করেছেন, ব্রিকস সন্মেলনের সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর সঙ্গে থাকা চিকিৎসক দল তাঁকে জরুরি পরিষেবা দেয়। পরে বিশেষ বিমানে তাঁকে বেজিংয়ে ফিরিয়ে আনা হয় বলে দাবি করেন তিনি। শিয়ের আরও দাবি, শি জিনপিং ভারতে চিকিৎসা নিতে চাননি। কারণ তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন।

শিয়ের দাবি, বেজিংয়ে পৌঁছনোর পর চিনের প্রেসিডেন্টকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে পিপলস লিবারেশন আর্মি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর দাবি, সেখানে চিকিৎসকরা জিনপিংয়ের গুরুতর ইস্কেমিক স্ট্রোক শনাক্ত করেন। পরে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।


তবে খবরটার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। বেজিং বা নয়াদিল্লি কোনও পক্ষই শি জিনপিংয়ের অজ্ঞান হয়ে পড়া, স্ট্রোক, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮ তম ব্রিকস শীর্ষ সন্মেলনে যোগ দেন শি জিনপিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন তিনি। কিন্তু পরে মোদীর দেওয়া গালা ডিনারে শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন না।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ অন্যান্য নেতারা নৈশভোজে অংশ নিলেও চিনের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সারাদিন পর শি জিনপিং হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির জন্য কোনও সরকারি চিকিৎসাজনিত কারণ জানানো হয়নি। সন্মেলনে মোদীর উদ্বোধনী বক্তব্যের সময় দুজনের সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও সামাজিক মাধ্যমে নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুন: সংযম প্রদর্শন করুন: হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা চিনের

এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্রিকস সন্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। শিয়ের দাবি অনুযায়ী, চিনের বিভিন্ন সামরিক কমান্ড ও সেনা ইউনিটও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। তবে এই দাবিরও কোনও প্রমাণ মেলেনি।