সোনা খনিতে হঠাৎই ভয়ঙ্কর ধস, মৃত্যু অন্তত ৩০ শ্রমিকের

Photo: BBC

সোনা খনিতে ভয়াবহ ধস। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্য আফ্রিকান রিপাবলিকানের পশ্চিমাঞ্চলে। ধসের পর আরও শ্রমিক খনির ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির নানা-মেম্বরে প্রদেশের আব্বা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। যদিও এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। তবে বাকি শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে বলে জানা গিয়েছে।

সেখানকার উপ-মেয়র সুলেমান বি এবং সরকারি কর্মকর্তা এভারিস্তে এনগামানা পরিস্থিতি সামাল দিতে সব ধরনের সাহায্য সংস্থার কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। সুলেমান বি জানান, কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে ৩০টি দেহ খনি থেকে টেনে বের করে আনা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। তিনি দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

সমাজমাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও দেখা যাচ্ছে। সেই ভিডিওতে তরুণ শ্রমিকদের গর্তের ভিতর থেকে টেনে বের করতে দেখা গিয়েছে। আশেপাশে থাকা মানুষদের আর্তনাদ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা এভারিস্তে এনগামানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও সহায়তা দিতে কর্তৃপক্ষ সবরকমভাবে চেষ্টা করছে।


মধ্য আফ্রিকার এই অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত ও ছোট পরিসরের খনিতে দুর্ঘটনা নতুন নয়। হাজার হাজার মানুষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সুরক্ষা ছাড়াই এসব খনিতে কাজ করেন। ফলে খনি ধসে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গত জুন মাসে ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে একটি অবৈধ সোনার খনি ধসে আটজনের মৃত্যু হয়। মে মাসে বে-মবারি খনি এলাকায় ধসে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। মার্চের মাঝামাঝি এনগুররুম গ্রামে আরেকটি খনি দুর্ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন: বাতিল হয়নি তারেকের দিল্লি সফর, ভারতের জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা 

এর আগে পূর্ব কঙ্গোতেও বড় ধরনের খনি দুর্ঘটনা ঘটে। ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে রুবায়া এলাকার একাধিক খনি ধসে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় এক খনিশ্রমিক জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই সব জায়গায় খননকাজ চলে। আর একটি খনিতে কয়েকশো শ্রমিক কাজ করেন। তাই একটি ধসই মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।