তীব্র ভূমিকম্পে ঘুম ভাঙল জাপানের, আহত অন্তত ২২, আগামী কয়েকদিন জারি সতর্কবার্তা

Japan Earthquake Photo-SNS

সাতসকালে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপানের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই কম্পনের জেরে একাধিক দোকানের কাচের জানালা ভেঙে গিয়েছে। আতঙ্কে বহু মানুষ বাড়িঘর এবং নানা ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এই ঘটনায় অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। রবিবার ভোররাতে মধ্য জাপানের শিজুওকা প্রদেশে ৫.৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। তার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় আইচি, গিফু, নাগানো-সহ একাধিক প্রদেশে। তখন ঘুমোচ্ছিলেন অধিকাংশ মানুষ। কম্পনে ঘুম ভেঙে তড়িঘড়ি পালাতে শুরু করেন মানুষজন। তাতেই ঘটে বিপত্তি। আহত হন বহু মানুষ। ২২ জনের আহত হওয়ার খবর মিললেও সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। মূল ভূমিকম্পের পর একাধিক মৃদু কম্পনও অনুভূত হয়েছে। আইচি প্রিফেকচারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছাড়াও হামামাতসু, কিয়োটো, নারা, ইয়ামানাশি এবং গিফু প্রদেশে কম্পনের প্রভাব পড়েছে। ইয়ামানাশিতেই অবস্থিত জাপানের বিখ্যাত মাউন্ট ফুজি। এই ভূমিকম্পের পর আগামী একসপ্তাহ বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিনদিন সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই কম্পনে বাড়িঘর এবং দোকানের ভিতরে থাকা জিনিসপত্র তাক থেকে ছিটকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ভূমিকম্পের জেরে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জাপান মেটেরিওলজিক্যাল এজেন্সি।

জাপানের আবহাওয়া দপ্তর ভূমিধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত নানকাই ট্রাফ অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেটে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়েনি। এই অঞ্চলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরাও সতর্ক করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতিও কমানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাপান মেটেরিওলজিক্যাল এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্প হয়। পশ্চিম শিজুওকা প্রদেশের মাটির ৪০ কিমির গভীরে ছিল কম্পনের উৎসস্থল। জাপানের সাত স্তরের ভূমিকম্প পরিমাপের স্কেলে ধরা পড়া তথ্য অনুযায়ী, আইচি প্রদেশের চিতা শহরে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫-এর উপরের স্তরে।


তাছাড়া আইচি, নাগানো, গিফু এবং শিজুওকার নানা এলাকায় ৫-এর নীচের স্তরের কম্পন অনুভূত হয়। কিয়োটো এবং নারাতেও পৌঁছয় কম্পনের অনুভূতি। তবে জাপানের রাজধানী টোকিয়োতে কম্পন অনুভূত হয়নি। জাপানের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পালাতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে এবং নানা জায়গায় ধাক্কা লেগে আহত হয়েছেন অনেকে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পনের জেরে ভেঙে পড়ছে দোকানের কাচ। রাস্তার উপর ছড়িয়ে রয়েছে সেই ভাঙা কাচ। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে অসংখ্য বই মেঝেতে পড়ে রয়েছে।