শক্তিশালী টাইফুনের দাপটে বিপর্যস্ত দক্ষিণ চিন। রবিবার ভোরে গুয়াংডং প্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে টাইফুন ‘নৌল’। ঝড়ের জেরে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায়। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র বা এনএমসি সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। শুধুমাত্র গুয়াংডং প্রদেশ থেকেই ৩ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে বহু উড়ান।
স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৫০ মিনিট নাগাদ গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের হুইডং কাউন্টির উপকূলের স্থলভাগে প্রবেশ করে নৌল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, স্থলভাগে ওঠার আগে ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছিল। সেই সঙ্গে আরও শক্তি সঞ্চয় করছিল। পরে স্থলভাগে ঢুকে ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও তার প্রভাবে দক্ষিণ চিনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে।
ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পরেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। মাছ ধরার সমস্ত নৌকা বন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সমুদ্রে যাওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
টাইফুনের জেরে পরিবহণ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুয়াংডংয়ের একাধিক রেল পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০টিরও বেশি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। সেই কারণে সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়ান চলাচলে দেরি হয়েছে।
হংকংয়েও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে। প্রবল দমকা হাওয়ায় একটি বহুতলের বাইরের নির্মাণকাজের জন্য ব্যবহৃত মাচা ভেঙে পড়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে, নৌলের প্রভাবে তাইওয়ানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তার তীব্রতা। চলতি মাসেই একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা সামলানোর পর নৌলের আঘাতে ফের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ চিনের উপকূলবর্তী এলাকায়।