ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে ফের উত্তেজনা চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে নিয়ে তিনি এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, আগামী দিনে খুব বড় কিছু ঘটতে চলেছে। সেই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার জন্য সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে জানান, তেহরানকে আচরণ ঠিক করতে হবে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘আমরা কখন এবং কীভাবে ওদের দেশটাকে উড়িয়ে দেব, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ওদের উচিত নিজেদের আচরণ ঠিক করা।’ ইরানের মোকাবিলায় আমেরিকার সামনে তিনটি বিকল্প পথে রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। প্রথমত, ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতিকে দুর্বল করে ওদের পথে বসানো। তৃতীয়ত, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছনো।
সেই সঙ্গে ট্রাম্প কূটনৈতিক পথ খুলে রাখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে এলে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে তিনি সম্ভবত আগ্রহী। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও নিউইয়র্কে যাবেন।
এদিকে সংঘাত বন্ধ করতে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুলতে এসব শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হর হরমুজ প্রণালীতে। সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতাও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের বাহিনী মোট ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। মার্কিন নৌ অবরোধ মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজের ক্ষেত্রে ১৪ জুলাই থেকে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। যেখানে আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৬টি।
আরও পড়ুন: তৃণমূলের তিন অ্যাকাউন্টে আপাতত তালা নয়, বহাল অন্তর্বর্তী নির্দেশ
সব মিলিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনই সামরিক সংঘাতও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এখন নজর ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।