সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতেও চলছে গোলা-গুলি, রুশ-ইউক্রেন বৈঠকে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী খুন

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ভয়ংকর অভিযোগ উঠল। রুশ-ইউক্রেন বৈঠকের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী খুন হয়েছেন বলে এমনটা জানা যাচ্ছে। ইউক্রেনের মধ্যস্থতাকারী ডেনিস কিরিভকে খুন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাঠগড়ায় ইউক্রেন।

যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাত ঘণ্টা যুদ্ধ বিরতির মধ্যে ইউক্রেনে ফের শুরু হয়েছে রুশ হামলা। ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় বোমাবর্ষণ হয়েছে।

ইউক্রেনের দাবি যুদ্ধ বিরতির মধ্যে রুশ হামলায় ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। ইউক্রেনে ঘরছাড়া। ১ লক্ষের বেশি মানুষ। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে।


শতাব্দীর সবথেকে বড় শরণার্থী সংকট বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতীয় সময় সকাল ১১.৩০টায় সাত ঘণ্টার জন্য যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা হয়।

রাশিয়া ইউক্রেন থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সাত ঘণ্টা সময় দেয়। মারিওপোল এবং সেইসঙ্গে ভলনোভাখা শহর দিয়ে হিউমেন করিডোর করা হয়েছে।

মারিওপোলে প্রায় ৪ লক্ষ ৪০ হাজার এবং ভলনোভাখায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ আটকে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে ইউক্রেনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি রুখতে আগেই গ্রিন করিডোরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব একমাত্র রাশিয়ার তরফে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হলে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে।

স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইউক্রেনের সময়সীমা ধরে এই যুদ্ধ বিরতি বহাল থাকবে। বেলা ১১টায় নাগরিকদের উদ্ধারকার্য শুরু হওয়ার কথা বৈঠকে ঠিক হয়।

এদিকে মারিওপোলে যে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার এবং ভলনোভাথায় ২১ হাজার মানুষ পানীয় জল এবং সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের নিরাপদে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ শনিবারে ১০ দিনে পড়েছে। রাশিয়া ইতিমধ্যে দাবি করেছে ইউক্রেনের একাধিক শহর তাদের কবজায় এসেছে।

সেইসঙ্গে রাশিয়ার দাবি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়েছে যদিও এদিন সেই দাবি খারিজ করে নিজে ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তিনি দেশের আমজনতাকে এমন কঠিন বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যাননি। তিনি কিভেই রয়েছেন।

রাশিয়ার তরফে শুক্রবার সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছিল ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

শনিবার তার প্রত্যুত্তর দিলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ তরজায় তেতে উঠল ইউক্রেনের রাজনীতি সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হলেও রক্তক্ষয় শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কি প্ররোচনা দেওয়ার জন্যই রাশিয়া ইউক্রেনের পরমাণু কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে এমনটাই দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মিকোলা আজারভ।

রাশিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম স্পুটনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই তিনি দাবি করেছেন। সাক্ষাৎকারে আজারভ বলেন ইচ্ছাকৃতভাবে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল।

প্রথমত কোনও সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন রুশ বা ইউক্রেনীয় সৈনিক ইউরোপের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রে এধরনের প্ররোচনা জোগানোর সাহস দেখাবে না। সেকারণে এটা ছিল পূর্ব পরিকল্পিত।

দ্বিতীয়ত জেলেনস্কি যেভাবে পরমাণু কেন্দ্রে রাশিয়ার আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানান তাতে বোঝা যায় যে পরিকল্পনা করেই রাশিয়াকে তাতানো হয়েছিল।

আসলে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ করতে এভাবেই প্ররোচনা জোগান জেলেনস্কি।

শুক্রবার ইউক্রেনের জেপোরজিয়া পরমাণু কেন্দ্রের একটি রিঅ্যাক্টরে আগুন লেগে যায় তাতে ১৯৮৬ চেরোনিবেলের ভয়াবহ স্মৃতি ফিরে আসে।

অভিযোগ উঠে রুশ সেনা এই পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি রাশিয়াকে সন্ত্রাসবাদী দেশ বলে অভিহিত করে।

এই প্রসঙ্গে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন রাশিয়া ছাড়া আর কোনও দেশ পরমাণু কেন্দ্রে আক্রমণ চালায়নি। সন্ত্রাসী দেশ পারমাণবিক সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করছে। ইতিহাসে এখন এই ধরনের ঘটনা প্রথম।

যদিও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয় ওই পরমাণু কেন্দ্রের ভেতরে টহল দিচ্ছিল ইউক্রেনের সেনা। সেই সময় ইউক্রেনীয় সেনা তাদের প্ররোচনা দেয় এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। রুশ সেনা এর পাল্টা জবাব দেয়।

এর ফলে পরমাণু কেন্দ্র এবং তার আশেপাশের এলাকা দুষণে ভরে যায়।

ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধের আর্জি ন্যাটো খারিজ করে দিয়েছে। ইউক্রেন সরকারের তরফে আর্জি জানানো হয়েছিল যাতে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রুশ বিমান ঢুকে যাতে বোমা ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগ করতে না পারে তার জন্য এই আর্জি জানানো হয়েছিল কিন্তু ন্যাটো সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। কারণ ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি এই প্রস্তাব মেনে নেয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়। তাই তাদের আকাশসীমা বন্ধ করতে হলে রুশ বিমানগুলিকে গুলি করে নামাতে হবে ন্যাটো এবং সদস্য দেশগুলিকে।

ফলে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর করা সম্ভব নয়। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে যেতে হবে। যাতে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি রাজি নয়।