পোল্যান্ডের ক্রাকভে বন্দুকবাজের হামলা। শহরের ঐতিহাসিক মেন মার্কেট স্কোয়্যারে আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এক ব্যক্তি। ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহরে এভাবে বন্দুকবাজের হামলায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পোল্যান্ডের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ধৃত বন্দুকবাজের বাড়ি থেকে আরও তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ২৪ বছর বয়সি অভিযুক্ত চরম দক্ষিণপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। পোল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্রাকভের ঐতিহাসিক প্রধান চত্বরে এই হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত একটি গাড়ি থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টে নাগাদ পুলিশের কাছে প্রথম খবর পৌঁছয়। খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হামলাকারী দক্ষিণপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিল। তবে এই বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। আহত ৫ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ব্রিটেনের বাসিন্দারা রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ। ঘটনায় ২ পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, ক্রাকভ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অস্ট্রোভিয়েক শ্বিয়েন্তোকশিস্কি শহরে অভিযুক্তের বাড়ি থেকে ২ মহিলা ও একজন পুরুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র থাকার আশঙ্কায় ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হয়। পরে সেখানে সন্ত্রাসদমন বাহিনী অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর পরনে ছিল সেনাবাহিনীর পোশাকের মত পোশাক। তার ব্যবহৃত গাড়ি থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। হামলায় এআর-১৫ (AR-15) রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। অভিযুক্তের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও ছিল।
ঘটনার পর ৮ ও ৯ নভেম্বরে জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির দপ্তর। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশনীতি প্রধান কাজা কালাসও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন।