ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তির শর্ত কার্যকর করতে তেহরানের উপর চাপ বজায় রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আচরণ না করে, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পিছপা হবেন না।সুইৎজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৈঠকের পর আমেরিকা ও ইরান আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর বিষয় নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
সেই লক্ষ্যেই পরবর্তী দফার আলোচনা এগোবে। বৈঠকের পর ইরানের প্রতি কিছু ছাড়ও দিয়েছে আমেরিকা। ইরানি তেলের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক শিথিলতা আনা হয়েছে। পাশাপাশি, তেহরানের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার মূল্যের আটকে থাকা সম্পদ ও তহবিল মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রশ্নে ইরানকে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরান যদি চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ইরানের মুক্ত হওয়া তহবিল কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেই প্রসঙ্গেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই অর্থ মূলত আমেরিকা থেকে খাদ্যপণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করার কথা ছিল। তাঁর মতে, ইরানের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ জরুরি এবং এর ফলে মার্কিন কৃষকরাও লাভবান হবেন।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ভি ভান্স জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে আমেরিকা। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের মুক্ত হওয়া সম্পদের ব্যবহারের উপর নজরদারি থাকবে আমেরিকা ও কাতারে। ওই অর্থ দিয়ে ইরান আমেরিকা থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং অন্যান্য খাদ্যশষ্য কিনতে পারবে। ভান্সের মতে, এতে যেমন ইরানের খাদ্যসঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা হবে, তেমনই মার্কিন কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে ক্লাসিক ট্রাম্প ডিল বলেও উল্লেখ করেছেন।
তবে এই শর্ত মেনে নিতে নারাজ তেহরান। আব্দুলনাসের হেম্মাতির দাবি, বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী আমেরিকার কাছ থেকে কৃষিপণ্য কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর বক্তব্য, মুক্ত হওয়া সম্পদ শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করতে হবে, এমন শর্তও চুক্তিতে উল্লেখ নেই। ফলে এই ইস্যুতে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা নতুন করে কূটনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে।