ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে— এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ থেকে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব অন্তত তিন বার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেই তালিকার মধ্যে সর্বশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বৈঠকের সময় তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, শরিফ ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ট্রাম্পকে দুর্লভ খনিজ উপহার দিচ্ছেন, যা বৈঠকের একটি রহস্যময় ইঙ্গিত হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউস থেকে কোনও বিস্তারিত বিবৃতি না আসলেও, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে।
এর আগে এই মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্র্যাটেজিক মেটালসের সঙ্গে এ চুক্তির মাধ্যমে তামা, সোনা ও অন্যান্য বিরল খনিজ রপ্তানি ও পাকিস্তানে শোধনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চুক্তির প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হল, এই লাইসেন্স চুক্তিতে খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স শর্ত আরোপ করা হয়নি, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার দিকে পাকিস্তানকে পরিচালিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই খনিজ কূটনীতি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং মার্কিন সম্পর্কের একটি কৌশলগত ভিত্তি। পাকিস্তানের প্রাক্তন সেনা প্রধান এটিকে ‘অর্থনৈতিক সুযোগের আড়ালে কৌশলগত করমর্দন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তান এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে খনিজ উত্তোলনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
এই চুক্তি ও বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদ অর্থনৈতিক সুবিধা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব দুইই পেতে মার্কিন সহায়তায় কৌশলগতভাবে নতুন অবস্থান নিতে চাইছে। তবে প্রকৃত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোর প্রস্তুতির উপর।