রাতভর ভয়াবহ হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ইউক্রেন। ইউক্রেনের দাবি, সোমবার রাতে দেশজুড়ে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভ-সহ একাধিক বড় শহর – নিপ্রো, খারকিভ, পোলতাভা ও জাপোরিজিয়ায় বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে জনজীবন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, শুধু কিয়েভেই অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি মানুষ। আহত হয়েছে বহু শিশুও। নিপ্রো শহরে আরও অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১১ থেকে ১৩র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের সামরিক সূত্রে খবর, হামলায় মোট ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬৫৬টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও তাদের দাবি, এর বড় অংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রাজধানী কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, একটি ২৪ তলা ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যার ফলে ভবনটি আংশিকভাবে ধসে পড়ে। আশপাশের আরও কয়েকটি বহুতলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে হঠাৎ একের পর এক বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত মানুষজন মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নেন।
হামলার পর কিয়েভের বড় অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ চলছে। তবে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
সামরিক ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চলতি বছরে অন্যতম বৃহৎ আকারের হামলা। কয়েকশো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো হয়েছে যা যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইউক্রেনের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষে বারবার বড় শহরগুলো লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। গত মাসেও কিয়েভে হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়। তার পর আবার এই নতুন আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষে স্বল্প সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। কিন্তু তা শেষ হওয়ার পরই ফের হামলা শুরু হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের।