ভূমধ্যসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসবাদী কাজ’ বলে তীব্র নিন্দা করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে এই ঘটনার বিষয়ে নীরব থাকার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে মস্কো।
রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার দাবি, ভূমধ্যসাগরে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে পরিকল্পিতভাবে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ মস্কোর।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘গত ৩ মার্চ স্থানীয় সময় ভোর ৪টে ২৫ মিনিটে ভূমধ্যসাগরের মাঝে একটি এরিয়াল ড্রোন প্রতিহত করা হয়। যখন এই হামলা হয়, ঠিক তখনই মালটা দ্বীপের দক্ষিণপূর্ব উপকূল থেকে ১৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান ছিল। সেই জাহাজে তখন এক লক্ষ ঘন মিটার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৩০ জন রাশিয়ান নাবিক ছিল। এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহণ ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। এটি নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসবাদী কাজ।’
মস্কোর অভিযোগ, এই গুরুতর ঘটনার পরও ইউরোপীয় সংঘ এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রাশিয়ার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন হামলার বিরুদ্ধে সব দেশের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। রাশিয়ার কূটনৈতিক মহল আরও জানায়, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্য হুমকি।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্তের দাবি উঠেছে। ঠিক কারা এই ড্রোন হামলার পিছনে রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এই মন্তব্য যখন করেছেন, ঠিক তার একদিন আগেই হরমুজ প্রণালীতে গুজরাতগামী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। যে জাহাজে ২৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁর মধ্যে দুইজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ফলে এমন একটি মুহূর্তে ভারতের বন্ধু দেশ হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার এই কূটনৈতিক অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।