রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তাঁর প্রতিনিধিদল। সূত্রের খবর, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের আগেই শহর ছেড়ে যেতে বলেছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। মার্কিন প্রশাসনের দুই আধিকারিকের উদ্ধৃতি দিয়ে এমনই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। যদিও ইরান এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি মেনেই আরাঘচি নিউইয়র্ক ছেড়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের মাধ্যমে রুবিওর বার্তা ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, রাষ্ট্রসঙ্ঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আরাঘচি নিউ ইয়র্কে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তাই তাঁকে এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে দ্রুত শহর ছাড়তে বলা হয়।
তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের মিশন এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, নির্ধারিত সূচি মেনেই ইরানের প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্ক ছেড়েছে। মার্কিন বিদেশ দপ্তর কোনও প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে ‘ভিত্তিহীন’ খবর ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান।
আরাঘচির নিউ ইয়র্ক সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকার সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেওয়া। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা নিয়েই কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল।
নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে আরাঘচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মাধ্যমে ইরানের একটি প্রস্তাব মার্কিন সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী সাত দিনের জন্য ফের খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। তারপরে পারমাণবিক কর্মসূচি-সহ বৃহত্তর বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান।
তবে দুই দেশের মধ্যে মূল মতপার্থক্য এখনও কাটেনি। বুধবার ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জবাব তারা পেয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সেই জবাব তেহরানে পৌঁছেছে বলে সংবাদসংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন পদক্ষেপ আগে এবং কোনটি পরে কার্যকর হবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আরাঘচিকে নিউ ইয়র্ক ছাড়তে বলার মার্কিন দাবিকে দুই দেশের চলতি কূটনৈতিক টানাপোড়েনের নতুন দিক হিসাবেই দেখা হচ্ছে। তবে ইরান অস্বীকার করায়, ঠিক কী কারণে মার্কিন প্রশাসনের তরফে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘শিগগিরই আপনারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা দেখতে পাবেন।’ তবে কী ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
আরও পড়ুন: সৌদির পোশাকে চিনা রোবটের নাচ, রিয়াধে তাক লাগাল হিউম্যানয়েডরা, ভাইরাল ভিডিয়ো
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর উপর যুক্তরাষ্ট্রের কার্যত ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান বলে আসছে, যুদ্ধ শুরুর আগের মতো পরিস্থিতি এখনও ফেরেনি এবং প্রণালীর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে হরমুজকে ঘিরে দুই দেশের বিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাতেও এখনও অচলাবস্থা কাটেনি।