বাংলাদেশে ভয়াবহ হাম রোগের প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। আওয়ামি লিগ নেতা মোহাম্মদ আলি আরাফাত বুধবার অভিযোগ তুলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্তই দেশকে ‘বিপর্যয়ের দোরগোড়ায়’ ঠেলে দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণে ইতিমধ্যেই ১২৮ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
আরাফাতের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইউনূসের প্রশাসন আওয়ামি লিগ সরকারের চালু করা একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাতিল করে দেয়। এর মধ্যে ছিল জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচিও। তাঁর দাবি, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলেই শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। নবজাতক পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’ তিনি আরও জানান, আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে টিকাকরণের আওতায় ছিল ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ। কিন্তু ২০২৫ সালে তা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৫৯.৬ শতাংশে, যা নীতির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আরাফাতের মতে, শিশুদের জন্য সহজলভ্য জীবনরক্ষাকারী টিকা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং ‘বাঁচার অধিকারের লঙ্ঘন’। তাঁর বক্তব্য, টিকাকরণ কমে যাওয়ায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়, যা সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে আনে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অগ্রাধিকার বদলের কারণে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আরাফাত বলেন, ‘ইউনূস প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামি লিগকে দমন করা। আর বর্তমান কর্তৃপক্ষ দায় চাপানোর খেলায় ব্যস্ত— সমস্যার সমাধানে নয়।’
এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। আরাফাতের আশঙ্কা, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে বাংলাদেশের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা নেতিবাচক স্বাস্থ্য শ্রেণিবিভাগ চাপতে পারে, যার প্রভাব পড়বে শিক্ষা, শ্রম বাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। সবশেষে তিনি দাবি করেন, ‘দেশকে এই বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য ইউনূস প্রশাসনকে দায়ী করা উচিত।’ বাংলাদেশের এই স্বাস্থ্য সঙ্কট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।