মানবসেনার বদলে রোবট, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নতুন কৌশল

Photo: রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নতুন কৌশল (AI)

রণক্ষেত্রে বদলাচ্ছে যুদ্ধের কৌশল। মানুষের বদলে এবার সামনের সারিতে নামছে রোবট। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ভিভালদি’-তে চালকবিহীন স্থলযান বা রোবট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের তৃতীয় সেনা ইউনিট। তাদের দাবি, মে মাস থেকে চলা এই অভিযানে রোবট ও ড্রোন মিলিয়ে ১৫ হাজার ৭০০-র বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে ৫টি গ্রাম ও ৩টি বসতির নিয়ন্ত্রণও পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন বাহিনী। অভিযানে রুশ বাহিনীর ৩ হাজারের বেশি সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের। যদিও এই দাবিগুলি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেনের তৃতীয় সেনা ইউনিট জানিয়েছে, ‘অপারেশন ভিভালদি’ শুরু হয় মে মাসে। এই অভিযানে শুধু বিস্ফোরক-বোঝাই রোবট নয়। মালপত্র পৌঁছে দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং মাইন পরিষ্কারের কাজেও চালকবিহীন স্থলযান ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেন বাহিনীর দাবি, রোবটগুলি ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টন সামগ্রী পরিবহণ করেছে।

এই অভিযানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কৌশল ছিল ভারী ড্রোনের মাধ্যমে স্থল রোবটকে রুশ অবস্থানের পিছনে পৌঁছে দেওয়া। ইউক্রেনের দাবি, কয়েকটি বিস্ফোরক-বোঝাই চার চাকার রোবটকে ভারী বোমারু ড্রোনে করে রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকার ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভিতরে নিয়ে গিয়ে নামানো হয়। মাটিতে নামার পর দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত ওই যানগুলি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়।


রোবটগুলিতে থাকা ক্যামেরার মাধ্যমে দূর থেকে চারপাশের পরিস্থিতি দেখা যায়। কোথাও মাইন পরিষ্কার করা, কোথাও রসদ পৌঁছে দেওয়া, আবার কোথাও রুশ সেনার অবস্থান ও পরিকাঠামোয় হামলার কাজে এগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বক্তব্য, এর ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সরাসরি মানবসেনাকে পাঠানোর প্রয়োজন কমছে। শান্দ্রিহোলোভে এলাকায় রোবট দিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ মাইনমুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তৃতীয় সেনা কোর।

তৃতীয় সেনা কোরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রি বিলেৎস্কি জানিয়েছেন, ড্রোনের মাধ্যমে স্থল রোবটকে শত্রুপক্ষের পিছনে নামানোর এই কৌশলকে তাঁর বাহিনী ‘বিশ্বে প্রথম’ বলে মনে করছে। তবে এই দাবির সত্যতা অন্য কোনও সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: ছাত্র আন্দোলনের আবহে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেন ভুচিচ  

ইউক্রেনের দাবি, রোবটের ব্যবহার তাদের সেনাদের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি রুশ বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গভীরে পৌঁছনোর নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে রাশিয়া, চিন ও ইজরায়েল-সহ একাধিক দেশও সামরিক ক্ষেত্রে চালকবিহীন স্থলযান নিয়ে কাজ করছে।