কানাডার টরন্টো শহরে বিখ্যাত লাতিন সংস্কৃতির উৎসব চলাকালীন চলল এলোপাথাড়ি গুলি। ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে ৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে টরন্টোর অন্যতম বড় উৎসব টিডি সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে টরন্টো পুলিশ। হামলার পরেই বন্দুকবাজ সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের ডেপুটি চিফ ফ্রাঙ্ক বারেডো জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান দুই বন্দুকবাজ একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। সেই সময় দুজন বন্দুকবাজ এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময় ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এভাবে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোয় একাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হন।
জানা গিয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে দুজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এরপরে পুলিশ আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে। জানা গিয়েছে, এলোপাথাড়ি গুলি চালানো শুরু হলে উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষ আতঙ্কে দিকবিদিকশূন্য হয়ে ছুটতে শুরু করে। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিন্তু তারপরেও পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চৌ এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে এই ঘটনাকে নিন্দনীয় সহিংসতা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে উৎসবে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কানাডায় এরকম ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ঘটে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। ২০২০ সালে নোভা স্কশিয়ায় ২২ জন নিহত হওয়ার পর কানাডা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন জারি হয়েছিল।