উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ ঝড়, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে পাঠানো শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুতিন তাঁর বার্তায় বলেছেন, উত্তরপ্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ধ্বংসযজ্ঞের খবর তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় প্রবল ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৫৩ জন। বহু এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসল এবং গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায়। সেখানে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সন্ত রবিদাস নগরে ১৪ জন এবং ফতেপুরে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বারাবাঁকি, বাহরাইচ, কানপুর দেহাত, বাস্তি, সম্ভল, হরদৌই এবং উন্নাও-সহ একাধিক জেলাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত উদ্ধার এবং ত্রাণকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাহায্য করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাণহানি, গবাদি পশুর মৃত্যু এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে হবে, যাতে ক্ষতিপূরণ দ্রুত দেওয়া যায়। জেলা প্রশাসকদের প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর পরিস্থিতির রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের দপ্তর জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ১১৪টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৮৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা স্তরের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের শোকবার্তা সেই আন্তর্জাতিক সহমর্মিতারই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।