বাবার টানে ব্রিটেনে হ্যারি-মেগান, ফিরেই ৬ কোটি ডলারের করের বোঝা!

pic- sns

রাজপরিবার মানেই নানা রকমের চর্চা। আর ব্রিটিশ রাজা চার্লসের পরিবার হলে সেই কৌতূহলের মাত্রা আরও বেশি। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের ব্রিটেনে ফেরা। রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন হ্যারি-মেগান। ২০২০ সালে ব্রিটেন ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি দেন তাঁরা। এরপর ক্যালিফোর্নিয়াতেই দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস।

তবে বাবা রাজা চার্লসের অসুস্থতার খবর উদ্বিগ্ন করে তোলে হ্যারিকে। বাবার পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশের পর সম্প্রতি ব্রিটেনে ফিরেছেন তিনি ও মেগান। আর তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্য না হওয়ায় ব্রিটেনে ফেরার পর তাঁদের কর-সংক্রান্ত পরিস্থিতিও বদলাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন সম্পদ ও আয়ের উপর মিলিয়ে বিপুল অঙ্কের করের দায় তৈরি হতে পারে। সেই অঙ্ক প্রায় ৬ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

ব্রিটেনের করব্যবস্থায় দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফেরার ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যারি-মেগান প্রায় ছয় বছর আমেরিকায় থাকার কারণে তাঁদের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত বেশ কিছু সুবিধা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ফলে ব্রিটেনে থাকা সম্পত্তি ও বিদেশ থেকে হওয়া আয়ের হিসাব নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে।


হ্যারি আমেরিকায় থাকলেও মার্কিন নাগরিকত্ব নেননি। অন্যদিকে, মেগান মার্কিন নাগরিক এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় তাঁর জন্ম। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে আমেরিকার করব্যবস্থার পাশাপাশি ব্রিটেনে ফেরার পর আয়ের উৎস নিয়েও করের হিসাব তৈরি হতে পারে। নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে মেগানের আয়ও সেই হিসাবের আওতায় আসতে পারে বলে দাবি।

এর সঙ্গে রয়েছে নিরাপত্তা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং ব্রিটেনে থাকার খরচ। জানা গিয়েছে, সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের জন্য ব্রিটেনে স্কুল খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন তাঁরা। রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্য না হওয়ায় বাকিংহাম প্যালেস বা রাজপরিবারের অন্য সরকারি আবাসনে থাকার সুযোগও তাঁদের নেই।

তবে এসবের মাঝেও হ্যারির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাবার পাশে থাকা। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অসুস্থ বাবার কাছাকাছি থাকার সুযোগই এখন তাঁর কাছে বড়। সেই টানের কাছে কয়েক কোটি ডলারের আর্থিক চাপও হয়তো ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।