‘আমাদের পরিচয়ের স্বীকৃতি আপনার দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না’, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে তোপ পিওকের ‘প্রধানমন্ত্রীর’

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে নিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে সংঘাত আরও প্রকাশ্যে চলে এল। এবার সরাসরি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী , যিনি মুখ্যমন্ত্রীর সমতুল্য, ফয়জল মুমতাজ রাঠোর। কাশ্মীরিদের পরিচয় নিয়ে আসিফের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ মন্তব্য করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোট ও মিরপুরের বাসিন্দারা ‘প্রকৃত কাশ্মীরি নন’। যদিও এই মন্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই মন্তব্যের পরই সমাজমাধ্যম এক্সে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ফয়জল রাঠোর।

তিনি লেকেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের পরিচয় নির্ধারণের জন্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বা অন্য কারো স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে আসিফকে কটাক্ষ করে বলেন, তাঁর কাজ মানুষকে এক করার বদলে বিভেদ তৈরি করছে।’ রাঠোরের অভিযোগ, নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় ইসলামাবাদ এখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসনের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘ আপনার ঊর্ধ্বতনদের জিজ্ঞাসা করুন, তাঁরাই বলবেন আমরা কতটা ভালোভাবে শাসন করেছি। আমাদের বলির পাঁঠা না বানিয়ে নিজের আগের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়াই বেশি মর্যাদার হতো।’


আরও পড়ুন: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জ্বলছে আগুন: খাবার নেই, ওষুধ নেই, ইন্টারনেট নেই– রাস্তায় লক্ষ ক্ষুব্ধ মানুষ

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জনরোষ ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম, নতুন কর, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমানোর প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ বা জেএএসি। এই সংগঠন ৩৮ দফা দাবি পেশ করেছে। পাশাপাশি, আইনসভায় শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবিও তুলেছে তারা।

পাকিস্তান প্রশাসন সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি-কে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে। তারপর থেকেই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ১১ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির জেরে পর্যটকদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে খোয়াজা আসিফের সম্প্রতি ভারত-বিরোধী মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এই ধরনের মন্তব্য তাদের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টাও এর অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারত আরও দাবি করেছে, ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার খর্ব এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরি, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জন-অসন্তোষ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধ, এই বিষয়গুলি এখন পাকিস্তানের জন্য নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।