চার দশক পর নরওয়ে সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী

চার দশকেরও বেশি সময় পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরওয়ে সফরে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ওসলোর বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্তোরে। সফরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, ভারত ও নরওয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী এবং গতিশীল করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্তোরের উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, চার দশকের বেশি সময় পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নরওয়ে সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।

এই সফরে নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড এবং রানি সোনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর। পাশাপাশি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্তোরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। সেখানে বাণিজ্য, সবুজ শক্তি, সমুদ্র অর্থনীতি, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আর্কটিক অঞ্চলে সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ মে ওসলোয় অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলন। সেই বৈঠকে নর্ডিক দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মেলন ভারতের সঙ্গে উত্তর ইউরোপের দেশগুলির সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার রাস্তা খুলে যেতে পারে।

এছাড়াও ভারত-নরওয়ে ব্যবসা এবং গবেষণা শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্তোরের সঙ্গেও তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শিল্প, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক মাধ্যমে জানান, নরওয়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ভারত-নরওয়ে অংশীদারিত্বে নতুন শক্তি যোগ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ৪৩ বছর পরে ভারত থেকে কোনও প্রধানমন্ত্রীর নরওয়ে সফর হচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরে ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ভারত-ইএফটিএ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন শক্তি, সবুজ প্রযুক্তি এবং নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারত ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭৩ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া নরওয়ের সরকারি পেনশন তহবিল ভারতের মূলধন বাজারে প্রায় ২,৮০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময়ে নরওয়ের মতো উন্নত দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়া ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে এই সফর কেবল কূটনৈতিক দিক থেকেই নয়, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।