চাঁদের মাটিতে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ২০২৯ সালে প্রথম লুনার রোভার ‘জিন্না-১’

Jinnah-1 Lunar Rover Photo-SNS

বিশ্ব প্রবাহেই গা ভাসাতে উদ্যোগ নিচ্ছে পাকিস্তান। যখন গোটা বিশ্ব চাঁদ নিয়ে গবেষণায় নানান অভিযান চালাচ্ছে তখন দৌড়ে সামিল হতে চাইছে পাকিস্তানও। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের চন্দ্র অভিযানের ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার চাঁদের মাটিতে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। আসলে ভারত করেছে তাই আমাদেরও করতে হবে। এই নীতি নিয়ে চলছে পাকিস্তান। তাদের দেশ জনগণকে সুলভে খাদ্য সামগ্রী দিতে পারছে না, অথচ চাঁদের মাটিতে পা রাখার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এটা নির্মম রসিকতা বলেই মনে করছেন বিশ্বের রাষ্ট্রনেতারা। পাকিস্তান ২০২৯ সালে প্রথম চন্দ্রযান বা লুনার রোভার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘জিন্না-১’ নামের এই রোভারটি চিনের সহযোগিতায় চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা সুপারকো জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠের ভূতত্ত্ব এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

চিনের সাহায্যে ২০২৯ সালে প্রথম চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদে পাঠাবে পাকিস্তান। চিনের চ্যাং-ই মিশনের অংশ হিসাবে রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে। সেখান থেকেই নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে রোভারটি। ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন এটাই জানিয়েছে। তাঁরা আরও জানান, এই চন্দ্রযানের নামকরণ নিয়ে একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৪০০০টিরও বেশি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। তার মধ্যে সাতজন প্রতিযোগী এই ‘জিন্নাহ-১’ নামটি প্রস্তাব করেন। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এই নাম প্রস্তাব করে বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছরের এক তরুণ বিজয়ী হয়েছে।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম এবং এখানে স্থায়ী ছায়ায় থাকা কিছু এলাকায় জলীয় বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বহুদিনের। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের ঘাঁটি তৈরি অথবা দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এই জলীয় বরফ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। তাই পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্র মিশন এমন একটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করছে, যেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।


২০২৯ সালের এই পরিকল্পিত অভিযান সফল হলে ‘জিন্নাহ-১’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবে। চিনের চন্দ্র অভিযানের সহযোগী হিসেবে এই মিশন পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ গবেষণার পথও প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। এই ‘জিন্নাহ-১’ নামটি ঘোষণা করে দিয়েছে সুপারকো। সুপারকো’র চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নাম পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্তে পৌঁছনোর আকাঙ্ক্ষা, অগ্রগতি এবং দেশের মহাকাশ কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই মিশনের সঙ্গে ভারতের চন্দ্র অভিযানের তুলনাও সামনে আসছে। ভারত ইতিমধ্যেই চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফল অবতরণ করে ঐতিহাসিক নজির তৈরি করেছে। চন্দ্রযান-৩-এর মাধ্যমে ভারত এই কঠিন অঞ্চলে সফলভাবে সফট ল্যান্ডিং করা বিশ্বের প্রথম দেশ হয়েছে।