বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পরই পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বা জিয়াউর রহমানের মতো ছেলেকেও হাতের মধ্যে রাখতে চাইছে ইসলামাবাদ। সেজন্য বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এই বার্তা বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌদি আরবের জেড্ডা শহরে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-র প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত কার্যনির্বাহী বৈঠকের ফাঁকেই দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেই বৈঠকেই ইশাক দার স্পষ্টভাবে জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে চান এবং প্রয়োজনে ঢাকা সফর করতেও আগ্রহী।
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
বৈঠকের সময় ইশাক দার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর অতীত সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্যালেস্টাইন ও রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। নতুন সরকারের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী। এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ-ইচ্ছাকে সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইতিহাসের জটিলতা ও অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে এই সম্পর্ক কতটা এগোবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও পারস্পরিক আস্থার উপর।