পাঞ্জাবে নাবালক খ্রিস্টান কিশোরকে জোর করে ধর্মান্তর পাকিস্তানে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে এক নাবালক খ্রিস্টান কিশোরকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তর করার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় সক্রিয় সংগঠন ভয়েস অব পাকিস্তান মাইনরিটি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অভিযোগ, শেখুপুরা জেলার বাসিন্দা ১৪ বছরের জামিল মাসিহ গত পাঁচ বছর ধরে এক প্রভাবশালী জমিদারের গবাদি পশুর খামারে কাজ করত। জামিলের বাবা শরিফ মাসিহ দিনমজুর। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তিনি বছরে পাঁচ মণ গমের বিনিময়ে ছেলের শ্রম দেন ওই জমিদারের কাছে। দারিদ্র্যের চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

সংগঠনের দাবি, গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামিলের বাবা-মা ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জানানো হয়, সে নাকি আর তাদের সঙ্গে দেখা করতে চায় না। স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।


অভিযোগ, গভীর রাতে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে ফের হাজির হন জমিদার। পরিবারের সামনে থেকে জামিলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে তার আর কোনও হদিশ মেলেনি। কয়েক দিন পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, জামিলের মাথায় ইসলামি টুপি, পটভূমিতে ধর্মীয় সঙ্গীত বাজছে। স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আশঙ্কা, তাকে জোর করে ধর্মান্তর করা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার সংগঠন হার্ডস পাকিস্তানর সহায়তায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের প্রধান সোহেল হাবিল এই ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি লাহোর হাই কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, জামিলের ঘটনা দারিদ্র্য, ধর্ম এবং সামন্ততান্ত্রিক প্রভাবের জটিল বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। বিশিষ্ট অধিকারকর্মী নেপোলিয়ান কাইয়ুমের বক্তব্য, সংখ্যালঘু নাবালকদের ধর্মান্তরের আড়ালে অনেক সময়েই জোরপূর্বক শ্রম ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি লুকিয়ে থাকে। পাকিস্তানে এখনও নাবালকদের জোরপূর্বক ধর্মান্তর রোধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট আইন নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পাকিস্তানের খ্রিস্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান নিয়মিতভাবে পাঞ্জাব ও সিন্ধ প্রদেশে এ ধরনের ঘটনার নথি সংরক্ষণ করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাবালিকা মেয়েরা নিখোঁজ হওয়ার পর ‘ধর্মান্তরিত’ বা অল্পবয়সে বিবাহিত হিসেবে সামনে আসে বলে সংগঠনগুলির দাবি।

সব মিলিয়ে, জামিল মাসিহের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে সরব হয়েছে মানবাধিকার মহল।