ধীরগতির ইন্টারনেট ও স্পেকট্রাম ঘাটতিতে সমস্যায় পাকিস্তান

প্রতীকী চিত্র

ইন্টারনেটের ধীরগতি, বারবার পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তথাকথিত ‘ফায়ারওয়াল’ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। আসন্ন ৫জি স্পেকট্রাম নিলামের আগে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেকট্রামের ঘাটতি এবং ওয়েব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অস্পষ্টতা দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর বড় প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, আগামী মাসে নির্ধারিত ৫জি নিলামের আগে সরকার বিতর্কিত ‘ফায়ারওয়াল’ ব্যবস্থা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু পরে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়, এই দাবি সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা এখনও চালু রয়েছে।

সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যাকে সাধারণভাবে ‘ফায়ারওয়াল’ বলা হচ্ছে, সেটির প্রকৃত নাম ‘ওয়েব ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা’। তাঁদের মতে, ‘ফায়ারওয়াল’ শব্দটি কেবল প্রচলিত ভাষার একটি অভিব্যক্তি, আনুষ্ঠানিক পরিভাষা নয়। তবে এই ব্যাখ্যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে। কারণ ব্যবহারকারীরা এখনও ধীরগতির ইন্টারনেট এবং আকস্মিক পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যার মুখে পড়ছেন।


বর্তমানে পাকিস্তানে মোবাইল পরিষেবার জন্য বরাদ্দ মোট স্পেকট্রামের পরিমাণ প্রায় ২৭০ মেগাহার্টজ, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। এই অঞ্চলে গড় স্পেকট্রাম বরাদ্দ ৭০০ মেগাহার্টজেরও বেশি। জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে পাকিস্তানে প্রতি দশ লক্ষ মানুষের জন্য স্পেকট্রাম মাত্র ১.১ মেগাহার্টজ, যেখানে শ্রীলঙ্কায় ১৫.২, ভিয়েতনামে ৭.৪, ভারতে ৩.৯ এবং বাংলাদেশে ৩.৬ মেগাহার্টজ রয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সীমিত স্পেকট্রামের কারণেই ইন্টারনেট পরিষেবার মান উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ৫জি প্রযুক্তি চালুর ক্ষেত্রেও এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আগামী মাসে নির্ধারিত ৫জি স্পেকট্রাম নিলাম প্রথমে ২০২৫ সালের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে।

গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে একাধিকবার হঠাৎ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অ্যাপভিত্তিক ব্যবসা, অনলাইন পরিষেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমুদ্রের নিচে থাকা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হলেও, অনেক সময় সরকারি পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুজবও সামনে এসেছে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মতে, স্থিতিশীল এবং দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা ছাড়া কোনও দেশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারে না। তাই স্পেকট্রাম বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার নীতিমালা প্রণয়ন এখন পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।