ইমরান খান-বুশরা বিবিকে নির্জন কারাবাস না দেওয়ার নির্দেশ পাকিস্তান হাইকোর্টের

Photo: Statesman

জেলের নির্জন কারাবাসে আর রাখা যাবে না পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে। পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা, নিয়মিত বই ও সংবাদপত্র পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সবই নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তার রিপোর্টও দিতে হবে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বন্দি ইমরান। একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে জেলে রয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন স্ত্রী বুশরা বিবিও। দু’জনকেই কার্যত একাকী রাখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এমনই অভিযোগ করে আসছিল ইমরানের পরিবার। আদালতের আগের নির্দেশও জেল কর্তৃপক্ষ মানেনি বলে অভিযোগ উঠেছিল।

এই পরিস্থিতিতে ইমরানের বোন আলিমা খান এবং বুশরার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা ইসলামাবাদ হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি খাদিম হুসেন সুমরো মঙ্গলবার জানান, ইমরান ও বুশরাকে কোনও ভাবেই নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে না। জেলের নিয়ম মেনে পরিবারের সদস্যদের তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। ইমরানের ছেলেদের সঙ্গেও ফোনে নিয়মিত কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে।


শুধু পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নয়। জেলের ভিতরে ইমরানের পড়াশোনার সুযোগও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রতিদিন তাঁকে সংবাদপত্র ও বই দিতে হবে। পাশাপাশি কারাবিধি মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে হবে। ইমরানের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে এর আগে তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা সরব হয়েছেন।

রায়ে বিচারপতি সুমরো বন্দিদের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আগের কয়েকটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন। প্রয়াত পিপিপি নেত্রী নুসরত ভুট্টো এবং বেগম শামিম আফ্রিদির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের উল্লেখ করে তিনি জানান, বন্দিদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এবং আইনসঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বেআইনিভাবে কাউকে একাকী বন্দি করে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের পকেটে ছ্যাঁকা, উৎসবের মরসুমে বাড়ল দুধের দাম

ইমরান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে। এদিনের রায়ের ফলে জেলের ভিতরে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ এবং তাঁর ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলা বিতর্কে আপাতত আদালত নির্দেশ দিল। তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবে কতটা মানা হচ্ছে সেদিকে নজর থাকবে। আদিয়ালা জেলের সুপারিনটেনডেন্টকে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।