অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে আন্তর্জাতিক সংগঠনের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করল পাকিস্তান। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ)গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে ভারতে একাধিক জঙ্গি হামলার মূলচক্রী তথা জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের মাথার দাম বাড়াল পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। ৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হল ৭০ লক্ষ টাকা। এমনকী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মাথা মাসুদ আজহারের নাম তাদের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা ‘রেড বুক’-এর অন্তর্ভুক্ত করল পাকিস্তান। এই খবর চাউর হতেই অনেকে বলছেন, একেই বলে ঠ্যালার নাম বাবাজি।
এদিকে ২৬/১১ মুম্বই হামলা থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার মাথা এই মাসুদ আজহার। পাকিস্তানের মদতেই যে ভারতে একের পর এক নাশকতা চালিয়েছে জইশের মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা পর্দাফাঁস করে ভারত। কিন্তু তখন ভারতের দাবি মানতে চায়নি পাকিস্তান। পরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ২০২১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ঘোষণা করে, মাসুদকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের বিনিময়ে ৫০ লক্ষ টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে। ইসলামাবাদ দাবি করে, জইশ প্রদান দেশে নেই। সে আফগানিস্তানে লুকিয়ে আছে। যদিও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে সম্পূর্ণ উলটো দাবি করেছিল।
অন্যদিকে পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে দেখে এখন নয়া কৌশল নিয়েছে পাকিস্তান। এফএটিএফের ধূসর তালিকায় ঢোকা থেকে বাঁচতে পাকিস্তান এখন মরিয়া। তাই এই কৌশল নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনা শীর্ষকর্তা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিররা। ওই কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই কদিন আগে মাসুদ আজহারকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ জানিয়ে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে দেয় ইসলামাবাদ। কিন্তু কাবুল সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দেয়, মাসুদ তাদের দেশে নেই। ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মাসুদ আজহার এখন বহাল তবিয়তে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের নবাবশাহ এলাকায় আছে। ২০২৬ সালের নতুন ‘রেড বুক’-এ আজহারকে রাখা এবং পুরষ্কারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাকিস্তানের ‘আই-ওয়াশ’ বলে মনে করছেন অনেকে।
তাছাড়া অক্টোবর মাসেই আবার পুনর্মূল্যায়ন বৈঠকে বসছে এফএটিএফ। ২০১৮ সালের জুন মাসে সন্ত্রাসবাদে অর্থসাহায্য প্রতিরোধের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয়েছিল। ধূসর তালিকায় কোন দেশ থাকলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার, বিশ্বব্যাঙ্ক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়। এখন এই কৌশল কতটা কাজে লাগে সেটাই দেখার।