ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার (Road Accident) সাক্ষী থাকল পাকিস্তান। অতিরিক্ত গতি এবং ওভারলোডিং-এর জেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের হাইওয়ে থেকে সোজা ১০০ ফুট গভীর পাথুরে খাদে (Deep Ravine) আছড়ে পড়ল একটি যাত্রীবাহী বাস। শুক্রবার ভোরে ঘটা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন যাত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও ৮ জন। দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বালুচিস্তান (Balochistan) এবং খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশের মধ্যবর্তী দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মাঝরাস্তায় বচসা ও হাতাহাতি
দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাসটি বালুচিস্তানের কোয়েটা (Quetta) থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারের দিকে যাচ্ছিল। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়েটা থেকে ছাড়ার সময় বাসে ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন। কিন্তু মাঝরাস্তায় পেশোয়ারগামী অন্য একটি বাস বিকল হয়ে পড়ায়, সেই বাসের যাত্রীদেরও এই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এর ফলেই বাসটি মারাত্মকভাবে ‘ওভারলোডেড’ (Overloaded) হয়ে পড়ে।
তদন্তের মাঝেই এক বেঁচে যাওয়া জখম যাত্রী হাসপাতাল থেকে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, চালক জোর করে অন্য বাসের যাত্রী তোলায় বাসের ভিতরেই তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন কয়েকজন যাত্রী। বচসা চলাকালীন এক উত্তেজিত যাত্রী আচমকাই চলন্ত বাসের চালকের গলা চেপে (Grabbed by the neck) ধরেন। এর ঠিক কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই চালক স্টিয়ারিং-এর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি পাহাড়ের রেলিং ভেঙে সোজা গিরিখাদে গিয়ে পড়ে। যদিও পুলিশ এই দাবি খতিয়ে দেখছে এবং যান্ত্রিক ত্রুটির (Mechanical failure) বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
উদ্ধারকাজে চরম বাধা
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দানা সার (Dana Sar) নামক একটি অত্যন্ত প্রত্যন্ত এবং পাথুরে পাহাড়ি এলাকায়। বালুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ (Shahid Rind) জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই শেরানি জেলার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার উদ্ধারকারী দল (Rescue teams) যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঝোপ (Zhob) জেলার জরুরি বিভাগের প্রধান সানাউল্লাহ শেরানি জানান, “যেহেতু দুর্ঘটনাটি একটি অত্যন্ত খাড়া ও পাথুরে পার্বত্য অঞ্চলে ঘটেছে, তাই উদ্ধারকাজের প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের কর্মীদের তীব্র বেগ পেতে হয়েছে।” দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের বডি কেটে একে একে ৪০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ৮ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝোপের ট্রমা সেন্টারে (Trauma Centre) ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন
এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি (Asif Ali Zardari) এবং বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি (Sarfraz Bugti)। তাঁরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এই দুর্ঘটনা পাকিস্তানের দুর্বল পরিবহন পরিকাঠামো এবং ট্রাফিক আইনের (Traffic laws) শিথিলতাকে আরও একবার নগ্ন করে দিল। যে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে বাসটি যাচ্ছিল, সেখানে কোনও উপযুক্ত হাইওয়ে সেফটি ব্যারিয়ার (Safety barriers) ছিল না। তার ওপর ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা সত্ত্বেও কেন হাইওয়ে পুলিশ তা আটকাল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের অন্দরে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে।