হুথি হামলার জেরে সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন করবে পাকিস্তান ও তুরস্ক

Photo: BBC

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মোকাবিলায় অবশেষে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তির শর্ত মেনে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। রিয়াধে তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের পর সোমবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্ত, তিন দেশের যে কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের উপর হামলা হিসাবেই গণ্য হবে। আক্রান্ত দেশকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সেনা পাঠানোর কথাও রয়েছে চুক্তিতে। সেই কারণে এই জোটকে অনেকে ‘ইসলামীয় নেটো’ বলেও বর্ণনা করছেন।

সৌদির প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সলমন সমাজমাধ্যমে জানান, সৌদি আরব এবং পবিত্র ধর্মস্থানগুলির উপর হামলার মোকাবিলায় ‘সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ সক্রিয় করার বিষয়ে তিন দেশের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি একমত হয়েছে। মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র শহরের উপর হামলারও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।


পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের সম্মতির ভিত্তিতে দ্রুত সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও অনুমোদিত প্রক্রিয়া মেনেই বাস্তবায়িত হবে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। জনবসতি, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, তেলক্ষেত্র ও অন্যান্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

হুথিদের ঠেকাতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সেই অভিযানে সহায়তা করছে। এর আগে মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা ছিল। সেপ্টেম্বরে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের উপর বিনা প্ররোচনায় আগ্রাসন হলে মক্কা চুক্তি কার্যকর করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্লাইদুবাই বিমানে প্রায় দেড়শো ইজরায়েলি, গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইজরায়েল, দাবি সিবিএসের  

তবে পরে ইসলামাবাদ স্পষ্ট করেছিল, চুক্তিটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক এবং এর অর্থ চুক্তিতে সই করলেই পাকিস্তানকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনা পাঠিয়ে যুদ্ধে নামতে হবে না। এবার অবশ্য সৌদিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তে সম্মতি দিল পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির এই প্রথম সক্রিয় প্রয়োগ পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। হুথিদের হামলাই এই জোটকে দ্রুত সক্রিয় করার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।