বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, সরকারি হিসেবেই আক্রান্ত লাখেরও বেশি

বাংলাদেশে সরকারি হিসাবেই এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রােগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১২৯ জনের। বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সরকারি কর্মকর্তারাই বলেছেন, নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

সরকারি কর্মকর্তারাই বলেছেন, নভেম্বর মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরগুলাের এই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তারা বলছে, সারাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াই এর বড় কারণ।

স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে যারা আনােদলন করছেন তারা বলেছেন, ডেঙ্গুর মূল উৎসব এডিস মশা নিধন এবং এই রােগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ৪১ টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং জেলাগুলাে থেকে সিভিল সার্জনের পাঠানাে তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু রােগীর পরিসংখ্যা তৈরি করছে। সেই হিসাব অনুযায়ী এবছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেলাে।


জুলাই অগাস্ট মাসে এবার সারাদেশেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের পর অক্টোবর নভেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসে। কিন্তু আগের বছরগুলাের এই নভেম্বর মাসের সাথে তুলনা করলে এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রােগীর সংখ্যা ৭৩ জন।

সরকারের রােগতত্ত্ব, রােগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়েই থাকবে। তিনি আরও বলেন, নভেম্বর পর্যন্ত কিন্তু সব বছরই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত থাকে। এবার যেটা হয়েছে, অন্যান্য বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। এগুলাে বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, সবসময়ই ডেঙ্গু কমবেশি আমাদের দেশে থাকবে। এর বড় কারণ এই ভাইরাস এবার সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। শীতেও থেকে যাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হবার আশঙ্কা।

এদিকে ঢাকা সহ সারাদেশেই এখন এডিস মশা নিধনের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। বলতে গেলে, মশা নিধনের কাজ থেমে গেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে সারাদেশে মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লে এর উৎস এডিস মশা নিধনে সিটি করপােরেশনগুলাে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলাের কর্মকান্ড দেখা গেছে। কিন্তু সেসব কর্মকান্ড এখন আর চোখে পড়ে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক কবিরুল বাশার বলেছেন, মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে এখন কর্তৃপক্ষ সেভাবে নজর দিচ্ছে না। যেহেতু বাংলাদেশে সব সময় এডিস মশা থাকার পরিবেশ রয়েছে, সেকারণে এই মশা নিধন কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেন ফরিদা আকতার। তিনি মনে করেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের কর্মকান্ডে সমন্বয়ের অভাব ছিল এবং অবহেলাও ছিল। এর সাথে অজ্ঞতাও আছে।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা কোন অভিযােগই মানতে রাজি নন। তারা বলছেন, এডিস নিয়ন্ত্রণে এবং ডেঙ্গু চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।