জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় জঙ্গিদের খোঁজে ভারতীয় সেনার অভিযান দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত। রবিবার দুপুরে শুরু হওয়া এই জঙ্গিনিধন অভিযান সোমবার সকাল থেকে ফের জোরদার করা হয়েছে। সিংপোরা এলাকার সোনার গ্রামের ঘন জঙ্গলে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়ে সেনার হোয়াইট নাইটস কর্পস ‘অপারেশন ত্রাশি-ওয়ান’ শুরু করে।
রবিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে দফায় দফায় গুলির লড়াই চলে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশির সময় জঙ্গিরা আচমকা গুলি চালানো শুরু করে এবং গ্রেনেড হামলা করে। সেই গ্রেনেড বিস্ফোরণে অন্তত আট জন জওয়ান আহত হন। আহতদের শরীরে বোমার স্ফ্লিন্টারের আঘাত লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যে পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিরা আত্মগোপন করে রয়েছে বলে অনুমান, সেটি ঘন অরণ্যে ঢাকা এবং ঢাল অত্যন্ত খাড়া। রাতের অন্ধকারে দৃশ্যমানতা কম থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার গভীর রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ফের পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে সেনা।
আধিকারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই জঙ্গলে দুই থেকে তিন জন জঙ্গি লুকিয়ে থাকতে পারে। তারা পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জঈশ-এ-মুহাম্মদের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সোমবার সকাল থেকে এখনও নতুন করে কোনও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ ও জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেনাদের বক্তব্য, অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলেও জঙ্গিদের পালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনা আধিকারিকদের মতে শান্তি বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।