পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মার্চ মাস নাগাদ প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষ, অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য কর্মসূচি সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-র জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের প্রধান রস স্মিথ জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ লক্ষ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, প্রায় ২০ লক্ষ নারী ও শিশু গুরুতর ক্ষুধার মুখে পড়বেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি ১৮ লক্ষেরও বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। দীর্ঘ খরা, সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ফলে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জরুরি ও স্থিতিস্থাপকতা দপ্তরের প্রধান রেইন পলসেন জানিয়েছেন, ‘খরার ফলে কৃষি ও পশুপালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসল উৎপাদন ও গবাদি পশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের গড় উৎপাদনের তুলনায় সাম্প্রতিক মৌসুমে প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ৮৩ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং জীবিকার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এই সংকট মোকাবিলায় খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রায় ৮৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ কোটি ডলার পাওয়া গিয়েছে। অর্থের অভাবে জরুরি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহায়তা না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা, সংঘর্ষ এবং অর্থনৈতিক সংকট একসঙ্গে মিলেই সোমালিয়াকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।